খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ার খবরে হতাশা প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নেতারা। রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর নেতারা গতকাল শনিবার বলেছেন, জাতিসংঘের বিশ^ খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) এই সিদ্ধান্ত তাদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। শিবিরে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা। খবর এএফপির।

গত শুক্রবার জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ডব্লিউএফপি জানায়, তহবিল সংকটের কারণে তারা রোহিঙ্গাদের দেওয়া মাসিক খাদ্য সহায়তার পরিমাণ জনপ্রতি ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ১০ ডলার করা হবে। মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের মুখে ২০১৭ সালে পালিয়ে আসার পর এবারই প্রথম রোহিঙ্গাদের সহায়তা কমানোর কথা জানাল ডব্লিউএফপি। সংস্থাটি বলছে, আরও ১২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়া না গেলে আগামী এপ্রিল থেকে সহায়তা আরও কমানো হবে।

advertisement

কক্সবাজারের শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা সাইদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি রোহিঙ্গাদের ওপর থেকে বিশে^র মনোযোগ কমে যাচ্ছে। কিন্তু ডব্লিউএফপির সবশেষ সিদ্ধান্ত শিবিরে মানবিক সংকটের পথ খুলে দিতে পারে।’

advertisement 4

শিবিরের আরেক নেতা সলিমুল্লাহ বলেন, খাদ্য সহায়তা কমানোয় শরণার্থী শিবিরে অপরাধ বাড়িয়ে দেবে। আর সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়বে নারী ও শিশুরা। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘এটা এক বিধ্বংসী আঘাত হবে। সন্ত্রাস, মাদক ও মানব পাচার বেড়ে যাবে।’

২০১৭ সালে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সামরিক অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। সেই সময় এক সঙ্গে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। তারা বাংলাদেশে এসে হত্যা, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। বর্তমানে এসব রোহিঙ্গার সহায়তা অব্যাহত রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া তাদের অন্যত্র পুনর্বাসন কিংবা নিজ দেশেও ফেরত পাঠাতে পারছে না সরকার। শরণার্থী শিবিরে যেসব রোহিঙ্গা বসবাস করেন তাদের বাইরে কাজের সুযোগ নেই। ফলে বেঁচে থাকতে তারা পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

ডব্লিউএফপি বলছে, শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গা শিশুদের প্রতি ৮ জনের একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। এ ছাড়া গর্ভবতী ও বুকের দুধ খাওয়ানো ৪০ শতাংশ মা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। উন্নত জীবনের আশায় অনেক রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে সাগরপথে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, গত বছর এমন ঝুঁঁকি নিয়েছেন প্রায় ২ হাজার রোহিঙ্গা। ধারণা করা হয়, এভাবে সাগরপথ পাড়ি দিতে গিয়ে গত বছর ২শ রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।

সেভ দ্য চিলড্রেনের এক বিবৃতিতে পরিচালক ওনো ভান মানেন বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবার ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। তাদের বেশি সাহায্য দরকার, কম নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষুধা ও অপুষ্টির পাশাপাশি বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম বৃদ্ধির এবং শরণার্থী জীবন পেছনে ফেলে সাগরপথে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া পরিবার বাড়ার খবর পাচ্ছি।’